1. selimnews18@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস :
  2. selim.bmail24@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২) : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২)
  3. asadzobayr@yahoo.com : Zobayr : আসাদ জোবায়ের
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ন

“অন্ধকারে ভয় পায় এমন মানুষদের বানানো রুপকথা হল পরকাল” স্টিফেন হকিং

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০

চলে যাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডে বাচ্চারা স্টিফেন হকিংকে জিজ্ঞেস করেছিল অন্য গ্রহ থেকে এলিয়েনরা এসে পৃথিবী ধ্বংস করবে কি না।

স্টিফেন হকিং জবাব দেন, তার চেয়েও বড় শঙ্কা হলো পৃথিবীতে যে পরিমাণে আণবিক বোমা আছে, তা পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেন, ভুল করে কোনো দুর্বল দেশের পারমাণবিক বোমার সুইচে কোনো পাগল বা সন্ত্রাসী ঢুকে পড়ে সুইচ টিপে দিলেই পৃথিবী শেষ। কারণ, সেটাকে প্রতিরোধ করতে সব দেশই তার তার সুইচ টিপে দেবে। হকিং বলেন, তাই আমাদের উচিত সব সরকারকে চাপ দেওয়া অস্ত্র কমানোর জন্য।

ভালোবাসায় বাঁচুক পৃথিবীর মানুষেরা।

দূরারোগ্য মোটর নিউরনে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তার আয়ু মাত্র দুই বছর বেধে দিয়েছিলেন। বোকার মত বাঁচার স্বপ্ন দেখলেন স্টিফেন হকিং নামের এক তরুণ। একে একে অকেজো হতে লাগল হাত, পা, তারপর পুরো শরীর। বন্দি হলেন হুইলচেয়ারের চার চাকায়। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই শুধু সচল মগজ আর হৃদয় সম্বল করে চালিয়ে গেলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার প্রিয় গবেষণা।

একসময় মুখের অস্পষ্ট কথাও কেড়ে নিল ঘাতক নিউমোনিয়া। তবুও হার মানেননি তিনি। গোয়াতুর্মি বোধহয় একেই বলে! ভাগ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চরম কষ্ট সয়ে লিখে ফেললেন ‘আ ব্রিফ হিস্টি অব টাইম’। বইটি সর্বকালের সর্বোচ্চ বিক্রিত ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান বইয়ের তালিকায় অন্যতম হিসেবে ঠাঁই নেয় ইতিহাসের পাতায়। ইতিহাসে ঠাঁই পান স্টিফেন হকিংও। রাতারাতি তারকায় পরিণত হন, আইনস্টাইনের পর আর কোন বিজ্ঞানীর কপালে এমন খ্যাতি জোটেনি। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে কেবল তার অদম্য মানসিক শক্তির কারণে। তাই যুগ যুগ ধরে তরুণদের প্রেরণা আর অদম্য শক্তির প্রতীক হয়ে আছেন হকিং।

স্টিফেন হকিং যখন প্রেমে পড়েন, কদিন বাদেই তার মোটর নিউরনে আক্রান্ত হওয়া ধরা পড়ে। হকিং তখন গ্রাজুয়েশন করছেন। ক্যামব্রিজে।নিজের ভবিষ্যত জানার পর প্রেমিকাকে ফিরিয়ে দেন হকিং। কিন্তু ফিরে যাননি তার প্রেমিকা, জেন ওয়াইল্ড। হকিংয়ের ঠোঁটে গাঢ় চুমু এঁকে বলেন- আমি তোমাকে ভালোবাসি। পঙ্গু হয়ে যাচ্ছো। তাতে কী? তুমি তো থাকবে!

তারপর হকিংয়ের চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিজের জামা দিয়ে মুছে দেন। হকিংয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন- সব সময় তোমার চশমাটা অপরিষ্কার থাকে। আমি না থাকলে কে এটা পরিষ্কার করে দেবে?

জেন ওয়াইল্ডের প্রতি মুগ্ধ হন হকিং। ১৯৬৫ সালে দু’জন বিয়ে করেন, তিনটা বাচ্চার জন্ম হয় তাদের। এগিয়ে চলে হকিংয়ের singularity theorems. এরই মধ্যে অবশ্য পদার্থবিদদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছেন তিনি। ব্লাক হোল, ইউনিভার্স, টাইম ইত্যাদি বিষয়ের ওপর তার গানিতিক গবেষণা বিশ্বব্রক্ষাণ্ড সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা এগিয়ে নিয়ে গেছে হাজার বছর।

পুরো পৃথিবী যখন স্টিফেন হকিং এর প্রতি মুগ্ধ, তখন একজন কিছুটা বিরক্ত। তিনি জেন ওয়াইল্ড। হকিং এর ভালোবাসার স্ত্রী। কারণ, ততোদিনে হকিং পুরোপুরি পঙ্গু। ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসে থাকেন সব সময়। হাত-পা, মাথা কিছুই নাড়তে পারেন না। এমনকি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অস্পষ্ট বাকশক্তিটুকুও হারিয়েছেন। হকিংয়ের এই পঙ্গুত্ব নিজের জীবনের সঙ্গে ব্যালান্স করতে পারলেন না জেন। হকিংয়ের প্রতি এক ধরনের উদাসিনতা এলো। যদিও দায়িত্ববোধের জায়গাতে সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করেছেন জেন। তিনি প্রেমে পড়লেন পিয়ানো বাদক জোনাথন জোনস এর।

এর মধ্যে আরেক ঘটনা ঘটল। হকিংয়ের পেছনে ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া জেনের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠল। ইতোমধ্যেই হকিং বিশ্বব্যাপী পরিচিত নাম। পৃথিবীর সবচে ব্যস্ত ‘পঙ্গু মানুষ’। তিনি হকিং এর জন্য একজন সেক্রেটারি নিয়োগ দিলেন। সুন্দরী, স্মার্ট, বুদ্ধিমতি। এলেন ম্যাসন।

হকিং তার সময়ের সেরা গানিতিক। জীবনের অঙ্ক তিনি নতুন করে মেলালেন। নিজে প্রেমে পড়লেন এলেন ম্যাসনের। অন্যদিকে জেনকে ‘যা খুশি তাই’ করার স্বাধীনতা দিলেন।

ফলাফল- ডিভোর্স। স্টিফেন হকিং ও জেন ওয়াইল্ডের ডিভোর্স হয়ে যায় ১৯৯৫ সালে। বিশ্বে প্রায় কিংবদন্তি হতে যাওয়া এক যুগলের প্রেমকাহিনী ভেঙ্গে গেল। সবাইকে হতবাক করে।

সবাইকে আরো হতবাক করে বিশ্বসেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ একই বছর এলেন ম্যাসনকে বিয়ের ঘোষণা দেন। কথা বলতে না পারা রসিক হকিং বিশেষ কম্পিউটারে বিয়ের বার্তা জানিয়েছিলেন এই বলে- ‘ইটস ওয়ান্ডারফুল! আই হ্যাভ ম্যারিড দ্য লেডি আই লাভ।’

ম্যাসনের মতো সুন্দরী, বুদ্ধিমতির পঙ্গু হকিংকে বিয়ে করার কারণ ছিল অস্পষ্ট। বিয়ের পর হকিং একা হয়ে পড়েন। বন্ধু-পরিবার থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন ম্যাসন। তবে এ বিয়েটা টেকে নাই। ২০০০ সালে খুব নিরবে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।

এর পরের গল্পটা বেশ মিষ্টি। হকিং সম্পর্ক পূণঃস্থাপন করেন জেন এবং তার তিন সন্তান ও নাতি-নাতনির সঙ্গে। জেনের সঙ্গে হকিংয়ের সম্পর্কটা এবারে দারুণ। দু’জন দু’জনের প্রিয়তম বন্ধু। ইলেকট্রিক চেয়ারে বসে বিশেষ কম্পিউটারের বাটন টিপে হকিং বলেন- আমি যদি পৃথিবীর সেরা রকস্টার হতাম, তাহলে তোমাকে গান শোনাতে পারতাম।

হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম বলেন, `আমরা দু:খের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় বাবা আজ মারা গেছেন। তিনি একজন বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, যার কাজ বহু বছর বেঁচে থাকবে’। কেন এক সময় হকিং তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন, “এই মহাবিশ্বটা যদি তোমাদের প্রিয় মানুষদের আবাস না হতো, তাহলে এটি মহাবিশ্বই হয়ে উঠত না।

হকিংয়ের চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিজের জামা দিয়ে পরিষ্কার করে জেন বলেন- তুমি এই ইউনিভার্সের সেরা রকস্টার। আমি কেন, বিশ্বব্রাক্ষাণ্ডের প্রতিটা গ্রহ-নক্ষত্র তোমার গান শুনছে বসে।

স্টিফেন হকিং একজন কবি। উলের গোল্লার মতো দেখতে পান পুঞ্জীভূত সময়কে, যা একদিন বুনতে বুনতেই শেষ হবে কোথাও। পোষা বেড়ালের মতোই দেখতে পান ছুটন্ত সময়কে, যার চাতুর্য রেশম দিয়ে তৈরি। আর আমাদের অসীম তুচ্ছতার কাব্যে টেনে আনেন অহেতুক সমীকরণ। নেহাত নতুন খাতা কেনা হয়নি বলে, শীতল সমুদ্রের ধারে কাটিয়ে আসেন ছুটি। স্নানশেষে, তাঁর মাথা মুছিয়ে দেওয়া তোয়ালের গায়ে ফুটে ওঠে একে একে তারাদের নাম।

শুভ জন্মদিন নক্ষত্রের কবি

লিখেছেনঃ লুৎফুল কবির রনি 

এ বিভাগের আরও খবর...

Comments are closed.

Shares