কোয়ারেনটাইনে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন

কোয়ারেনটাইনে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন

বিনোদন ডেস্ক : করোনাভাইরাস সতর্কতায় ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেনটাইনে অভিনেত্রী-পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে তার স্বামী প্রয়াত লেখক হ‍ুমায়ূন আহমেদের বাড়ি ‘দখিন হাওয়া’র একটি কক্ষে তিনি নিবৃত্তবাস নিয়েছেন।

আজ ফেসবুক পেজে তার এক স্ট্যাটাস থেকে এ তথ্য জানা যায়। যদিও তার শরীরে জ্বর কিংবা সর্দি-কাশিজাতীয় কোনো লক্ষণ নেই, তবু বাইরে থেকে এসেছেন, যদি করোনাভাইরাস সঙ্গে এনে থাকে!

শাওন গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক গিয়েছিলন। ফ্লোরিডায় একটি বইমেলায় অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ মার্চ রওনা দিয়ে গতকাল সোমবার দেশে ফেরেন। ফিরতি পথে তার দুবাই, ইতালি ও ইরানের ফ্লাইট ছিল। চীন কাঁপিয়ে করোনাভাইরাস এখন ইতালি ও ইরানে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে। তার এই যাত্রায় কোথাও তিনি করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এসেও থাকতে পারেন। তাই গতকাল দেশে ফিরেই বিকাল পাঁচটা থেকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেনটাইনে যান।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শাওন লেখেন, ‘বেশ আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া একটি বইমেলায় অংশ নিতে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। ওয়াশিংটনে প্রকোপ থাকলেও নিউইয়র্কে করোনা প্রকাশ পায়নি তখনো। ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ার পরপরই আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে সতর্কবার্তা জারি হয়ে যায়। তারপর ঘর থেকে বের হইনি।… প্রতি মুহূর্তের খবর দেখছিলাম আর ভাবছিলাম বাচ্চাদের কাছে ফিরতে পারব তো?’

শাওন লেখেন, ‘পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় গতকাল দেশে ফিরেছি। ঢাকা এয়ারপোর্টে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্ক অবস্থান দেখে ভালো লাগলেও দুবাই থেকে ফেরার ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের গণহারে প্যারাসিটামল কিংবা প্যানাডল খেয়ে ‘জ্বর যেন না ওঠে তাহলে মেশিনে আটকায়ে দেবে’ ধরনের আচরণ খুব আশঙ্কাজনক লেগেছে!

‘কোয়ারেন্টাইন’ শব্দটার প্রতি এক অজানা ভীতিতে সবাই। মাত্র ১৪ দিন নিয়ম মেনে আলাদা থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত থাকবে, এই কথা ৪/৫ জনকে বোঝাবার চেষ্টা করে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি আমি।

‘তবে নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম নিউইয়র্ক থেকে রওনা হওয়ার একদিন আগেই। আব্বু-আম্মুর সঙ্গে কথা বলে রেখেছিলাম, তারা দুজন সায় দিয়েছেন। নিনিত এবং নিষাদ দুজনকেই বুঝিয়ে বলেছেন। পুত্রদ্বয়ও বিষয়টা সুন্দরভাবেই গ্রহণ করেছে।

‘আমি গতকাল থেকে আমার ধানমন্ডির বাসায় সবার থেকে আলাদা (হোম কোয়ারেন্টাইন শব্দটিতে আমারও ভয় লাগে!) আছি। আমার মার বাড়িতে থাকা পুত্রদের সঙ্গে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। বাসায় ফেরার পর গতকাল রাতে প্রতিবেশী স্বর্ণা ভাবি জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানাতে চাইলে তাঁকে বারণ করেছি। তিনি বুঝতে পেরেছেন এবং ৩/৪ হাত দূরে দাঁড়িয়ে খাবার দিয়ে গেছেন। দখিন হাওয়ায় আমার বাসার দরজা প্রথমবারের জন্য তালাবন্ধ রাখা হয়েছে! সবাই ভালো থাকবার চেষ্টা করবেন। অন্যদের ব্যাপারেও সচেতন থাকবেন।’



আরো খবর


Shares