1. selimnews18@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস :
  2. selim.bmail24@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২) : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২)
  3. asadzobayr@yahoo.com : Zobayr : আসাদ জোবায়ের
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রাপ্তির গল্প

সাহিত্য ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

তৌহিদুল ইসলাম: হতাশার গল্প অনেক শুনেছি। আজ কিছু প্রাপ্তির গল্প বলবো। শত বছরের পুরাতন আদালত ভবনের স্যাঁতসেঁতে খাসকামরার ফ্লোরে আধুনিক টাইলস বসেছে। বিবর্ণ দেয়ালে লেগেছে রঙের ছোঁয়া। রুগ্ন এবং ভগ্ন টেবিল চেয়ার আসবাবপত্রের স্থলে জায়গা করে নিচ্ছে নতুন সব আসবাবপত্র। সকল আদালতে সরবরাহ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ। সংযোগ প্রদান করা হয়েছে উচ্চগতির ইন্টারনেট। ভার্চুয়াল শুনানির জন্য সকল বিচারককে দেয়া হয়েছে মাউথ পিসসহ চমৎকার হেডফোন। সকল আদালতে নতুন করে সরবরাহ করা হয়েছে ইলেকট্রিক কেটলি, টিস্যু বক্স কাভার, পেন স্ট্যান্ড, ক্লিপ কুশন, ক্লিপ, দুটি করে টাওয়েল সহ নানাবিধ অফিস উপকরণ।

শিক্ষানবিশ সহকারী জজবৃন্দ যোগদানের সাথে সাথেই পেয়েছেন পছন্দমত মোটামুটি সর্বোচ্চ মনের কাপ, প্লেট, পিরিচ এবং মগ। আদালত সমূহে সরবরাহ করা হয়েছে এবং হচ্ছে টেবিল গ্লাস, মান সম্মত পর্দা। নিয়মিত বিরতিতে সকল আদালতে পৌঁছে যাচ্ছে ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, হ্যান্ড ওয়াশ, এয়ার ফ্রেশনার। পর্যায়ক্রমে সকল আদালতে লাগানো হচ্ছে এসি। এজলাসে দেওয়া হচ্ছে ডায়াস, চেম্বারে নতুন করে আরো ভিজিটিং চেয়ার। এসব হচ্ছে অফিসের গল্প।

এর পাশাপাশি বাংলোর আম, লিচু, কলা, সজনে ডাটা সহ সবজি, ফলমূল এবং পুকুরের মাছ নিয়মিত পৌঁছে যাচ্ছে বিচারকদের বাসায়। এসব আসলে গল্প নয়, এগুলো পাবনার বিচারকদের অভিজ্ঞতা। হয়তো সকল বিষয় উল্লেখ করা ঠিক হয়নি আবার সকল বিষয় উল্লেখ করাও সম্ভব হয়নি। কিন্তু এতটুকু কৃতজ্ঞতা আমাদের মাননীয় জেলা জজ স্যারকে জানানো উচিৎ। পাশাপশি সকল বিচারকদের সাথে বিষয়টি এজন্যও শেয়ার করা উচিৎ যেন আমাদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আমরা ভুল না বুঝি। সারা দেশের বিচারকদের চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তাকে মাথায় রেখে মাননীয় কর্তৃপক্ষ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদানে সচেষ্ট আছেন। সে অনুসারে বরাদ্দ হচ্ছে বলেও জানা যায়। তারপরও মাঠ পর্যায়ে কেন এতো অভাব অভিযোগ?

আমরা পাবনার বিচারকবৃন্দ দৃঢ় ভাবে বলতে পারি, আমাদের মাননীয় জেলা জজ স্যার আমাদের প্রয়োজনীয়তার প্রায় পুরোটাই পূরণ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রদান করেছেন এবং সেটা মাননীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেই। আমাদের মাননীয় জেলা জজ স্যারকে কখনোই এসবের জন্য ধন্যবাদ দেওয়া যায় নি। কারণ স্যার এগুলোকে সব সময় তার দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন। পাবনা বিচার বিভাগ এমন একজন স্যারকে অভিভাবক হিসেবে পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।

স্যার ইতিপূর্বে যেসব জেলাতে ছিলেন শুনেছি সেখানকার বিচারকদের অভিজ্ঞতাও ঠিক এমনই। আমাদের সকলের এমন অভিজ্ঞতা হলে হয়তো বিচার বিভাগের মাঠ পর্যায়ে খুব একটা হতাশা থাকতো না।

আশার কথা এই যে, দিন দিন এমন প্রাপ্তির গল্পগুলো বাড়ছে। মাননীয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগ গুলোতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এমন করে নেতৃত্ব দিতে পারলে আশা করি সেদিন খুব দূরে নয় যেদিন বিচার বিভাগে হতাশার গল্প আর থাকবে না। স্থানীয় অভিভাবক এবং মাননীয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এভাবেই এগিয়ে যাক প্রিয় বিচার বিভাগ।

লেখক: সহকারী জজ, পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এ বিভাগের আরও খবর...

Comments are closed.