1. selimnews18@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস :
  2. selim.bmail24@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২) : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২)
  3. asadzobayr@yahoo.com : Zobayr : আসাদ জোবায়ের
রাশেদের অনাকাংখিত ঘটনা অনেক কিছু বদলে দিতে পারে
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

রাশেদের অনাকাংখিত ঘটনা অনেক কিছু বদলে দিতে পারে

মুক্তকথন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০

নিজামুল হক বিপুল: কিছু কিছু ঘটনা মানুষকে পথ দেখায়। সুপথে চলার সুযোগ করে দেয়। নিভৃতে কাঁদতে থাকা মানুষের আর্জি পেশের সুযোগ করে দেয়। ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস যোগায়। মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের অনাকাংখিত ও বিচ্ছিন্ন হত্যাকান্ডের ঘটনাটি হয়তো সেই পথ খুলে দিয়েছে। মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ এনে দিয়েছে।

খুলনার এরশাদ শিকদার-এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে এদেশের মানবকূলের। বহু মানুষকে হত্যা করেছিল। লাশ ফেলে দিত ভৈরব নদে। স্বজনরা কোন হদিস পেতেন না। অপরাধ করতে করতে সে নিজেকে অন্য জগতের মানুষ হিসেবে আবির্ভূত করেছিল। তার এই অপরাধের কথা জানত স্থানীয় প্রশাসন। ছিল রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন ব্যবস্থা নিত না। ফলে ভয় আর শংকায় থাকত এরশাদ শিকদারের হাতে নৃসংশভাবে খুন হওয়া মানুষগুলোর পরিবার। আর এরশাদ তার আলিশান বাড়ি ‘স্বর্ণকমলে’ নারী নিয়ে মওজ-মাস্তিতে মশগুল থাকত।

তার অপরাধের রাজ্যে বজ্রপাতের মত আঘাত করল (এই আঘাতটি স্থানীয়দের কাছে বহুল প্রত্যাশিত ছিল) একটি হত্যাকান্ড। ঘটনাটি ১৯৯৯ সালের ১৬ মে’র। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতা খালিদ হোসেনকে হত্যা করে লাশ ভৈরব নদ এ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেই হত্যাকান্ডের পরই ঘুরে যায় সব কিছু। গ্রেপ্তার হয় এরশাদ শিকদার। বিচারের মুখোমুখি হয়। ফাঁসির মধ্য দিয়ে ২০০৪ সালে এরশাদ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। স্বাস্তি আসে মানুষের মাঝে।

সেদিন খুলনার যুবলীগ নেতা খালিদ হোসেন খুন না হলে হয়ত আরও অনেক দিন এরশাদের রাজত্ব থাকত। বহু নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হত।

টেকনাফ ও কক্সবাজার জুড়ে ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু হয় ২০১৮ সালে। সেই থেকে শুরু করে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ বধ্ হয়েছে ২৮৭ জনের। এরমধ্যে অনেকে আছেন নিরপরাধ এবং নিরীহ।
গত ৩১ জুলাই টেকনাফ পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাশেদের। এই ঘটনায় পর মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মর্পণ করেছেন। ওসিসহ তিন জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে টেকনাফ এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়াদের মধ্যে যারা নিরীহ এবং ন্যায় বিচার প্রত্যাশি তাদের প্রত্যেকের বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হল। এখন রাষ্ট্র ও সরকার সেই নিরীহ মানুষগুলোর বোবা কান্না শুনতে পারলেই হয়তো অনেক কিছুই বদলে যাবে।

আগস্ট.০৬.২০২০

  •  
    43
    Shares
  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরও খবর...

Comments are closed.