1. selimnews18@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস :
  2. selim.bmail24@gmail.com : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২) : একাত্তর এক্সপ্রেস (টিম ২)
  3. asadzobayr@yahoo.com : Zobayr : আসাদ জোবায়ের
এখন যৌবন যার বাসায় থাকার তার শ্রেষ্ঠ সময়: মাশরাফি
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

এখন যৌবন যার বাসায় থাকার তার শ্রেষ্ঠ সময়: মাশরাফি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০

খেলা ডেস্ক: কবি হেলাল হাফিজের কবিতার লাইনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘এখন যৌবন যার বাসায় থাকার তার শ্রেষ্ঠ সময়’। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহ দিচ্ছেন মাশরাফি। তিনি আরও লেখেন, ‘বি সেফ, বি অ্যাট হোম’।

এর পর আজ সন্ধ্যায় ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে মাশরাফি যা যা বললেন, তা হুবহু তুলে দেওয়া হলো

‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। যদিও ভালো আছেন কথাটা এ মুহূর্তে বলা ঠিক কিনা কারণ সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার পরও কথা বলতে হবে। করোনা ভাইরাস বিষয়ে আমরা সবাই জানি অনেকেই কথা বলছি সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে যাবেন আপনারা দেখবেন যে করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কিত। আতঙ্কিত না হওয়ারও কোনো কারণ নেই। পৃথিবীর বড় বড় দেশ এখন শারীরিক, মানসিক, সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত। কোনোভাবেই ট্যাকেল দিতে পারছে না। এখন আমাদের কী করা উচিত বা আমাদের কী করণীয়। কারণ বড় দেশগুলো ভেঙে পড়ছে। আমাদের দেশ তো এমনিতেই ছোট। মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যদি এই রকম ক্রাইসিস আসে আল্লাহ না করুকÑ কী হতে পারে আমরা বুঝতে পারছি। তাই এ মুহূর্তে করণীয় কিছু আছে বলে আমি মনে করি। যা আমাদের সবারই করা উচিত। এক হচ্ছে যে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকা’

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার আহ্বান জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। আল্লাহর কাছে ডাকা যে আল্লাহ আমাদের রহমত করুন। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে আমাদের সহযোগিতা করুন যেন না হয়। সবাই যেন সুস্থ থাকে। দ্বিতীয় জিনিস করণীয় যেগুলো আমাদের আছে  যেটা হচ্ছে অবশ্য অবশ্যই প্রবাসী ভাই ও বোনেরা যারা বিদেশে থাকেন, এসেছেন দেশে বা যারা বেড়াতে গিয়েছিলেন, দেশে আসছেন আপনাদের কিন্তু অনেক কিছু করার আছে। প্রথম হচ্ছে নিয়মকানুনগুলো অবশ্যই মেনে চলা। কোয়ারেন্টিনÑ এ শব্দটা ব্যবহার না করে আমি বলব, গৃহবন্দি থাকা। সেটা পরিবার নিয়ে নয়। আপনি আলাদা ১৪ দিন থাকুন। এবং ১৪ দিন পার হওয়ার পর যদি আপনি অসুস্থ না হন, তা হলে আপনার পরিবারকে নিয়ে আপনার ঘরে থাকুন। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ঘোষণা আসছে বা ডাক্তাররা বা সমাজের উচ্চপদস্থ যারা আছেন উনারা ঘোষণা না করছেন যে ‘উই আর সেফ’। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে ঘরে থাকা। এটা হচ্ছে প্রথম বিষয়। এর পরও আমাদের করণীয় আছে। যেটা হচ্ছে যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া নিয়মিত’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মিত পানি পান করা। ১৫-২০ মিনিট অন্তর অন্তর। আপনার ঘর, আপনার পরিবেশ চারপাশটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। এসব ব্যাপারে কিন্তু আছেই। আমাদেরকে এসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর চেয়ে আরও কঠিন অবস্থায় যাওয়ার পর মানলে আর কোনো সুযোগ আমরা পাব না। আমাদের উচিত এখন থেকেই এ জিনিসটাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা। কারণে এটা রাষ্ট্রীয় ক্রাইসিস হয়ে যেতে পারে। আমরা কেউই জানি না যে আমাদের আশপাশে কারা আছে। আমরা কার হাত ধরছি। কী করছি। আমরা কেউই জানি না যে আসলে এ ভাইরাসটা কে নিয়ে চলছে পথে। এ ভাইরাস ১৪ দিন সময় নেবে আপনার বোঝার জন্য। আমার কাছে মনে হয় যে এটা গভীরভাবে চিন্তা করার ব্যাপার। যেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। এ যদি আকস্মিকভাবে আমাকে, আপনাকে, পরিবারকে বা পরিবারের কাউকে বা সামাজিকভাবে আঘাত করে, সেটা কিন্তু সামাল দেওয়া খুবই কঠিন হবে। আগেও বলেছি, ইতালির মতো বড় বড় দেশ ইংল্যান্ড বলেন, স্পেন বলেন, চায়না বলেন, সব দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমরা কতটুকু পারব সেটা আমাদের ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশটা অনেক ছোট। মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যে করণীয় জিনিসগুলো আছে তা আমরা করি। একটা কথা মনে রাখবেন যে, আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন কিন্তু আপনি এখন নিজে। আপনি যদি আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন্সি ঠিকমতো করতে পারেন আমি শিওর যে ইনশাল্লাহ আমরা কিছুটা হলেও কমাতে পারব। অন্যথায় কিন্তু ডিজেস্টার হওয়ার সুযোগ খুব বেশি। আপনারদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা ঘরে থাকুন প্লিজ প্লিজ।

প্লিজ ঘরে থাকুন। আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকুন। আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন। আপনার সমাজকে সুরক্ষিত রাখুন। এটা আমার দায়িত্ব, আপনার দায়িত্ব, সবার দায়িত্ব। এ মুহূর্তে কোনোভাবেই আমরা বাইরে যাওয়া অ্যাফোর্ট করতে পারি না বিনা কারণে ঘর থেকে বের হওয়া। আমরা অনেক সময় বলি, নানা কারণে কাজে ব্যস্ততা ইত্যাদি। পরিবারকে সময় দিতে পারি না। আপনি এখন পরিবারকে সময় দিন। এখন আপনার কোনো কাজের ব্যস্ততা নেই। অন্য যারা আছেন তারা চেষ্টা করুন। যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করুন। দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন। যতটুকু না করলেই নয়। তার পরও আমি বলব, স্টে অ্যাট হোম। ঘরে থাকুন, আপনার সমাজকে আপনি রক্ষা করুন।’

  •  
    2
    Shares
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরও খবর...

Comments are closed.